কলার উপকারিতা অপকারিতা ও কলা খাওয়ার সঠিক সময়

আমার এক বন্ধু যে কলা পছন্দ করে না, তার সাথে কথা হচ্ছিল কিছুদিন আগে সকালের নাস্তাই।তার কাছে জানতে চাইলাম, সে কেন কলা পছন্দ করে না। সে উলটো জিজ্ঞেস করলো, কলার উপকারিতা বা অপকারিতা বিষয়ে আমি কিছু জানি কিনা। তার কথায় মোটেও কিছু মনে করলাম না। তারপর সে জানালো কলা খেলে তার কিছু সমস্যা হয়, এবং কেন কলা খাওয়া উচিত কি না সে বিষয়ে বিস্তর বলা শুরু করলো। তার কথার সারমর্ম হল কলার অপকারিতা আরকি!! চলুন আমার সেই বন্ধুর কনফিউশন দূর করে আসি, এতে আমারও দারুণ উপকার হবে।

আরও পড়ুন-

মোটা হওয়ার সহজ উপায় কি জেনে নিন

এই আর্টিকেলটি পড়লে নিশ্চিত কলা সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে। যদি আপনি আমার সেই বন্ধু মত কলা পছন্দ করে না থাকেন। কলা খাওয়ার সকল উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে চলুন বিস্তারিত জেনে আসি। পড়তে থাকুন, যত পড়বেন তত স্মার্ট হবেন।এই আর্টিকেলে আমরা জানব কলাতে কি কি পুষ্টি উপাদান আছে, কখন কিভাবে কলা খাওয়া যেতে পারে, কলা খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও উপকার অপকার সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।

কলার গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান সমূহ

কলাকে সুপারফুড হিসেবে ধরা হয় এটা কি জানতেন? কলাতে প্রচুর পরিমানে আঁশ এবং ভিটামিন বিদ্যমান। এজন্য কলাকে সুপারফুড বলা হয়। কাঁচা কিংবা পাকা সব ধরণের কলাতেই আছে প্রচুর ভিটামিন। ৮থেকে ৯ ইঞ্চি লম্বা কলাতে আছে ১২০ ক্যালরি ও ৪৯০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। কলার পটাশিয়াম শরীরের সোডিয়াম কমিয়ে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এবং যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন বি-৬ পাওয়া যায়। যেটি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে, স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। এছাড়া কলাতে যেসব পুষ্টি উপাদান আছে তারমধ্য গুরুত্বপূর্ণ হল  ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, প্রোটিন ও ফ্যাট। তাহলে চলুন জেনে আসি প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে।

প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা

তুলনামূলক কম দামে, অন্যান্য ফলের চেয়ে বেশি শারীরিক উপকারিতা আছে কলাতে। চলুন দেখে নিই। প্রতিদিন নিয়ম করে কলা খেলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে আপনি সুস্থ থাকবেন, রোগ আক্রান্ত হলে খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবেন। প্রতিদিন একটা করে কলা খেলে আপনি পর্যাপ্ত পরিমানে ক্যালরি পাবেন। ত্বক সজীব রাখতে কলার জুড়ি মেলা ভার। আরও মজার বিষয় হচ্ছে কলা ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমায়। পেট পরিস্কার রাখার পাশাপাশি হজমেও সাহায্য করে কলা। একটি কলায় থাকে ৩ গ্রাম ফাইবার। যা খুব তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায়। অনেকেই ভাবে কলা শুধু ওজন বৃদ্ধি করে, কিন্তু নিয়ম মেনে প্রতিদিন কলা খেলে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।তাছাড়া কলাই যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন মিনারেল এর পাশাপাশি ক্যারোটিনয়েডের মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও থাকে।

কখন কলা খাওয়া ভালো? সঠিক সময়

সকালে হালকা ভারী খাবারের সাথে কলা খাওয়া সবচেয়ে ভালো। কারণ, খালি পেটে কলা খেলে অনেকের গ্যাস হতে পারে। বিশেষকরে ওটমিলের সঙ্গে নিয়মিত খেলে ওজন কমানো যায়।

সুস্থ থাকতে কেন কলা খাওয়া জরুরি স্বাস্থ্য সচেতন লোকেরা নিয়মিত কলা খান, এবং যারা নিয়মিত জিম করেন তাদের কলা খাওয়া বাধ্যতামূলক। মজার বিষয় হচ্ছে শুধু কলা নয় কলার খোসাও সাস্থের জন্য দারুণ উপকারি জিনিস। কারণ কলার খোসাতে থাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সংক্রামক এর হাত থেকে রক্ষা করে ভিটামিন এ।

উপসংহারঃ কলার উপকারিতা ও অপকারিতা

আমরা অনেকেই কলা পছন্দ করি অনেকেই করিনা। আবার অনেকেই না জেনে বা ভুল জেনে কলা খায়। আজ ব্যাখ্যা করেছি, কলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা। এবং এই আর্টিকেল পড়লে জানবো কলা খাওয়ার সঠিক সময় সকাল বেলা। এবং কেন সকালে কিভাবে কলা খাওয়া উচিত। কলার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি আপনার ভালো লেগেছে।

Leave a Comment