জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড PDF পিডিএফ

কিভাবে বাংলাদেশে একটি জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড করবেন ?

যদিও জন্ম নিবন্ধন সনদ হল অধীনে স্কুল ছাড়ার শংসাপত্র, জমি সংক্রান্ত নথি ইত্যাদির সাথে প্রয়োজনীয় নথিগুলির মধ্যে একটি, তবে জন্ম নিবন্ধন সারা দেশে বাধ্যতামূলক।

জন্মটি সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন করতে হবে, যেটি শংসাপত্র জারি করে। যেমন মিউনিসিপ্যাল ​​কর্পোরেশন, আপনার নিজস্ব এলাকার মিউনিসিপ্যাল ​​কর্পোরেশন জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড জারি করবে। শহরাঞ্চলে মিউনিসিপ্যাল ​​কর্পোরেশন বা মিউনিসিপ্যাল ​​কাউন্সিল সার্টিফিকেট জারি করে।

কিছু দেশে, সন্তান জন্মদানের পর জন্ম নিবন্ধনকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু আরও অনেকের ক্ষেত্রে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ যা একটি শিশুর পরিচয়ের আইনি প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করা যায় না। এটি ছাড়া, শিশুরা তাদের সরকারের কাছে অদৃশ্য, যার অর্থ তারা তাদের অধিকারগুলিকে সুরক্ষিত এবং সমুন্নত রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার মতো প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলি মিস করতে পারে।

বিশ্বব্যাপী 5 বছরের কম বয়সী প্রায় এক চতুর্থাংশ শিশুর জন্ম কখনও রেকর্ড করা হয়নি। এই শিশুদের জীবন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সরকার তাদের অস্তিত্ব না জানলে তাদের রক্ষা করা যাবে না।

জন্ম নিবন্ধন সনদ কি?

জন্ম নিবন্ধন সনদ হল শিশুর জন্ম রেকর্ড করার প্রক্রিয়া। এটি একটি শিশুর অস্তিত্বের একটি স্থায়ী এবং সরকারী রেকর্ড, এবং সেই শিশুর পরিচয়ের আইনি স্বীকৃতি প্রদান করে। 

ন্যূনতম, এটি একটি আইনী রেকর্ড স্থাপন করে যেখানে শিশুটি জন্মগ্রহণ করেছিল এবং তার পিতামাতা কে। একটি শিশুর জন্ম নিবন্ধন সনদ পাওয়ার জন্য জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন – তার পরিচয়ের প্রথম আইনি প্রমাণ।

শুধু জন্ম নিবন্ধনই একটি মৌলিক মানবাধিকার নয়, এটি শিশুদের অন্যান্য অধিকারগুলিও সমুন্নত রাখা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে – যেমন সহিংসতা থেকে সুরক্ষার অধিকার এবং স্বাস্থ্যসেবা ও ন্যায়বিচারের মতো অপরিহার্য সামাজিক পরিষেবা৷

জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড
জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড

জন্ম নিবন্ধন নথি থেকে সংগৃহীত তথ্য সরকারকে কোথায় এবং কীভাবে অর্থ ব্যয় করতে হবে এবং শিক্ষা ও টিকাদানের মতো উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য কোন ক্ষেত্রে ফোকাস করতে হবে তা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

একটি শিশু নিবন্ধিত না হলে কি হবে জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড

জন্ম নিবন্ধন একটি শিশুর জন্ম শংসাপত্র পাওয়ার একমাত্র বৈধ উপায়।

পরিচয়ের এই আইনি প্রমাণ শিশুদের সহিংসতা, অপব্যবহার এবং শোষণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে। জন্ম শংসাপত্র ব্যতীত, শিশুরা তাদের বয়স প্রমাণ করতে অক্ষম হয়, যা তাদের বাল্যবিবাহ বা শ্রমবাজারে বাধ্য করা বা সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের অনেক বেশি ঝুঁকির মধ্যে রাখে।

এটি অভিবাসী এবং উদ্বাস্তু শিশুদের পারিবারিক বিচ্ছেদ, পাচার এবং অবৈধ দত্তক গ্রহণের বিরুদ্ধে সুরক্ষায় সহায়তা করতে পারে। এটি ছাড়া, এই শিশুরা রাষ্ট্রহীনতার অনেক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, যার অর্থ তাদের জাতীয়তা সহ কোনও দেশের সাথে আইনি সম্পর্ক নেই।

জন্ম শংসাপত্র ছাড়া, অনেক শিশু নিয়মিত টিকা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে না। তারা স্কুলে যোগ দিতে বা পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করতে অক্ষম হতে পারে। ফলস্বরূপ, তাদের ভবিষ্যতের চাকরির সুযোগ অত্যন্ত সীমিত, যা তাদের দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করার সম্ভাবনা বেশি করে তোলে।

যৌবনে, বাচ্চাদের এই সরকারী পরিচয়ের প্রয়োজন হবে মৌলিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনের জন্য যেমন একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা, ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করা, পাসপোর্ট পাওয়া, আনুষ্ঠানিক চাকরির বাজারে প্রবেশ করা, সম্পত্তি কেনা বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া, বা সামাজিক সহায়তা গ্রহণ করা।

জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড pdf এর উদ্দেশ্য কি

জন্ম শংসাপত্র আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধরনের কার্য সম্পাদন করে। তারা আমাদের বলে যে আমরা কে, কোথায় এবং কখন আমরা জন্মগ্রহণ করেছি এবং কার কাছে আমরা জন্মগ্রহণ করেছি।

আমাদের বেশিরভাগের জন্য, একটি জন্ম শংসাপত্র একটি অপরিবর্তনীয় দলিল যা আমাদের পরিচয় নির্দেশ করে; আমাদের একটি সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড, একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং একটি পাসপোর্ট পাওয়ার অনুমতি দেয়৷

জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড পিডিএফ

বাংলাদেশের 2004 সালের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন অনুযায়ী , যে কোনো বাংলাদেশী নাগরিকের জন্মের 45 (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মধ্যে একজন মনোনীত জন্ম নিবন্ধকের (বাংলাদেশের বাইরে জন্মগ্রহণ করলে বিদেশে বাংলাদেশ মিশন) এর কাছে জন্ম নিবন্ধন করতে হবে।

শিশু জন্মের 45 দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হয়, যার পরে একটি ফি দিতে হবে।

https://bdris.gov.bd/br/reprint/add এই লিঙ্কে গিয়ে আপনি এপ্লিকেশন আইডি ও জন্ম তারিখ দিয়ে বন্ধন সনদ ডাউনলোড করুন।

প্রয়োজনীয়তা:

ধাপ 1:

সমস্ত আবেদনকারীদের জন্য, একটি জন্ম নিবন্ধন আবেদন অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।   BDRIS আবেদনপত্রের জন্য আবেদন করতে অনুগ্রহ করে http://bdris.gov.bd/br/application লিঙ্কে ক্লিক করুন  । উপরের লিঙ্কটি কাজ না করলে অনুগ্রহ করে আপনার ব্রাউজারে লিঙ্কটি কপি এবং পেস্ট করুন। একবার অনলাইন নিবন্ধন সম্পন্ন হলে, অনুগ্রহ করে আবেদনের একটি অনুলিপি প্রিন্ট করুন এবং নিম্নলিখিত নথিগুলি সংযুক্ত করুন:

ধাপ ২:

প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য:

  1. মোবাইল নম্বর এবং ইমেল ঠিকানা সহ যথাযথভাবে কভার পৃষ্ঠা পূরণ করুন (অনুগ্রহ করে ডাউনলোড লিঙ্ক থেকে ডাউনলোড করুন)
  2. আবেদনকারীর একটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি;
  3. বাংলাদেশ পাসপোর্টের সার্টিফাইড কপি;
  4. জন্ম শংসাপত্রের প্রত্যয়িত অনুলিপি;
  5. প্রাপ্তি রশিদ;

বিদেশে জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের সন্তানের জন্য:

  1. পিতামাতার ডিজিটাল জন্ম শংসাপত্র (2001 সালের পরে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য);
  2. সন্তানের একটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি;
  3. শিশুর বিদেশে জন্মের শংসাপত্র (মূল) বা, একটি JP/GP/পুলিশ/ফার্মাসিস্ট দ্বারা সত্যায়িত বিদেশে জন্ম শংসাপত্রের একটি ফটোকপি;
  4. একটি ফটোকপি সহ অভিভাবকদের মধ্যে যেকোনো একজনের আসল বাংলাদেশ পাসপোর্ট (বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ); অথবা, একটি JP/GP/পুলিশ/ফার্মাসিস্ট দ্বারা সত্যায়িত পাসপোর্টের তথ্য পৃষ্ঠার একটি ফটোকপি;
  5. অভিভাবকদের মধ্যে যেকোনো একজনের মোবাইল নম্বর এবং ইমেল ঠিকানা।

[মেল-ইন-সার্ভিসের ক্ষেত্রে স্ব-অ্যাড্রেসড ট্র্যাকযোগ্য প্রি-পেইড খাম]

NB: নথির সম্পূর্ণ সেট পাওয়ার পরে জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া করা হবে। বাংলায় আবেদনপত্রের ক্ষেত্রে BLOCK অক্ষর ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় তথ্য ইংরেজিতে পূরণ করতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন কি কি কাজে লাগে

জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকলে জন্ম নিবন্ধন পত্র ব্যবহার করা যায়।  জন্ম নিবন্ধন যে যে কাজে লাগে তা নিম্নে দেয়া হলঃ

  • বিবাহ নিবন্ধন
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু
  • ভোটার আইডি কার্ড
  • ব্যাংক হিসাব খোলা
  • পাসপোর্ট ইস্যু
  • গ্যাস, পানি, টেলিফোন ও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তি
  • টিআইএন বা ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার প্রাপ্তি
  • ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রাপ্তি
  • ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি
  • বাড়ির নকশা অনুমোদন প্রাপ্তি
  • গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্তি
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  • আমদানী ও রপ্তানি লাইসেন্স প্রাপ্তি
  • সরকারী, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ
  • জমি রেজিস্ট্রেশন

এছাড়াও আরও অনেক কাজে লেগে থাকে জন্ম নিবন্ধন সনদ।

জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড এর নিয়ম

  • প্রথমে,অনলাইন জন্ম নিবন্ধন তথ্য ব্যবস্থা বা Online BRIS ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করতে হবে।
  • ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশের পর একটি ওয়েবপেজ দেখতে পাবেন। যা দেখতে এই রকম হবে।
  • আপনার জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে প্রথম খালি বক্সে যার জন্ম নিবন্ধন তথ্য যাচাই করতে চান। তারপর জন্ম নিবন্ধন সনদ এ থাকা ১৭ ডিজিটের নাম্বার প্রদান করুন।
  • দ্বিতীয় বক্সে যার জন্ম নিবন্ধন সনদে থাকা জন্ম তারিখ প্রদান করুন।
  • আর কারো জন্ম তারিখ যদি ১৯৯০ সালের জানুয়ারীর ১ তারিখ হয় তাহলে দ্বিতীয় বক্সটিতে (1990-01-01) এভাবে লিখতে হবে।

জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও তার উত্তর

জমজ সন্তানের জন্ম নিবন্ধন কীভাবে করা হবে

জমজ সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রথমে একের পর এক আবেদন করে অনলাইনে সাবমিট করতে হবে তারপর যথাযথ নিয়মে নিবন্ধন করতে হবে । (একটি নিবন্ধন সমাপ্ত করে ফেললে অপর আবেদনটি অনলাইনে সাবমিট করতে সমস্যা হবে।)

১৭ ডিজিটের কম জন্ম নিবন্ধন নম্বর কিভাবে ১৭ ডিজিটে উন্নীত করা যাবে

১৭ ডিজিটের কম জন্ম নিবন্ধন নম্বর হলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কার্যালয়ে পুরাতন সনদটি জমা প্রদান করে ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর সম্বলিত সনদ নেওয়া যাবে। নিবন্ধনের সকল স্তরের মত এক্ষেত্রেও নাগরিকের নিজস্ব মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে।

পূর্বে নিবন্ধন না হয়ে থাকলে বিবাহিত নারীর জন্ম নিবন্ধন স্বামীর বাড়ির ঠিকানায় করা এবং সনদে স্বামীর নাম লিখা যাবে কি

পূর্বে নিবন্ধন না হয়ে থাকলে আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী বিবাহিত নারীর বিলম্বিত জন্ম নিবন্ধন স্বামীর স্থায়ী ঠিকানায় করা যাবে। তিনি চাইলে তার জন্ম স্থানের ঠিকানায়ও নিবন্ধন করতে পারবেন। জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পিতা ও মাতার নাম লিখতে হবে, স্বামীর নাম লেখার কোন সুযোগ নাই।

নিবন্ধনাধীন ব্যক্তিকে কি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সনদ দিতে হবে

হ্যাঁ!

পিতা-মাতার যে কোন একজন বিদেশী হলে কীভাবে সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করা হবে

মাতা অথবা পিতার যে কোন একজন বিদেশী হলে যিনি বাংলাদেশী তার স্থায়ী ঠিকানার প্রয়োজনীয় দলিলাদি নিয়ে যোগাযোগ করতে হবে। তখন নিবন্ধক প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে নিবন্ধন করে দিবেন।

কোন কোন ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করা হলে সফ্টওয়্যারে একই নম্বরে একাধিক ব্যক্তিকে দেখায়। এ ক্ষেত্রে করণীয় কী?

অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের শুরুতে অসাবধানতা বা অন্যান্য কারণে কোন কোন ক্ষেত্রে একই নম্বর একাধিক ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন নম্বর হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এইরূপ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিবন্ধন অফিসে এনে সম্মতির ভিত্তিতে ঐ নম্বরটি একজনকে বরাদ্ধ প্রদান করে অপরজনকে একটি নতুন নম্বর দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।

আমেরিকায় রোজা

সমঝোতা না হলে যার নিবন্ধন আগে হয়েছে তার জন্য এই নম্বরটি রেখে অপরজনকে নতুন নম্বর বরাদ্দ (reset) করতে হবে। এই অপশনটি BDRIS এর “জন্মতথ্য” মডিউলে “জন্ম নিবন্ধন বিষয় সঠিক করুন” অপশনে গেলে পাওয়া যাবে। সফটওয়্যারে এই অপশনটি শুধু ‘অথরাইজড ইউজার’ পাবেন।