ডিম কিভাবে খাওয়া উচিত এবং ডিমের পুষ্টিগুণ উপকারিতা

ডিম কিভাবে খাওয়া উচিত? এই প্রশ্নটা সবার মনে ঘুরতে থাকে যারা অন্তত স্বাস্থ্য সচেতন। ডিমের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের সবার কিছু ভুল ধারণা আছে। চলুন আজ সব মিসকন্সেপশন ক্লিয়ার করা যাক সঠিক রেফারেন্স সহ।

প্রথমে জেনে নেই, বিজ্ঞানীরা ডিম নিয়ে কি মত দিয়েছেন। বিবিসির এক রিপোর্টে জানা যায়, চীনের একদল বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়েছিলেন ৫ লাখ মানুষের উপর। রিপোর্ট শেষে তারা জানিয়েছেন হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুকি কমে যদি প্রতিদিন একটা করে ডিম খাওয়া হয়।তবে শর্ত হল শুধু প্রতিদিন ডিম খেলেই হবে না, পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত জিবনযাপন করতে পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা একসময় মনে করতাম বেশি বেশি ডিম খাওয়া সাস্থের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সে ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন।

ডিমের পুষ্টিগুণ

কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিটা ফরুহি বলেছেন, চীনে ৫ লাখ মানুষের উপর চালান সমীক্ষা ও গবেষণার থেকে এই বিক্সয় পরিষ্কার যে, ডিম খেলে হৃদযন্ত্র বা রক্ত সঞ্চালনের কোন সমস্যা তৈরি হয়না বং নিয়মিত ডিম খাওয়া সাথের জন্য অনেক উপকারি। বেশিরভাগ প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় ডিমে। ডিম চোখের ক্ষতি ঠেকাতে সাহায্য করে। ডিমে আছে প্রোটিন, ভিটামিন এ, ডি, বি এবং বি-টুয়েলভ্। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি যে, অন্যান্য খাবারে যে পুষ্টি গুলো আপনি পাচ্ছেন, বেশি ডিম খাওয়ার কারণে যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়ে যায়। যদিও এতে ভয়ের কিছু নেই। ডিমে হালকা পরিমাণ কোলেস্টেরল আছে কিন্তু সেটা ক্ষতিকর নয়। যেটা ক্ষতিকর তাকে বলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বলে। ডিমের কোলেস্টেরল সাস্থের ক্ষতি করে না। এখন প্রশ্ন হল ডিম কিভাবে খাওয়া উচিত? চলুন জেনে আসি।

আরও পড়ুন- জীবন বদলে ফেলুন

ডিম কিভাবে খাওয়া উচিত?

তুলনামূলক কম দামে পুষ্টির উৎস হল ডিম। আমরা আগেই জেনেছি যে ডিম সাস্থের জন্য ক্ষতিকর নয়। বিভিন্ন রকমের ডিমের রেসিপি আছে। একেজন একেক ডিমের রেসিপি পছন্দ করি। কিন্তু তেলে ভাজা, আধাসিদ্ধ, ফুল সিদ্ধ মজার বিষয় হচ্ছে আলাদা আলাদা রেসিপিতে ডিমের পুষ্টিগুণ পালটে যায়। মানে কম বেশি হয় পুষ্টিগুণের। তাহলে, ডিমের পুষ্টিমান ঠিক রেখে কিভাবে ডিমে খাওয়া উচিত?

আধা সিদ্ধ

৫ মিনিট সিদ্ধ করলে ডিমের সাদা অংশ ভালভাবে সিদ্ধ হবে ফলে সাদা অংশের জীবাণু মরে যায়। ডিমের ভিতরের কুসুম হালকা কাচা থাকবে। এমন আধা সিদ্ধ ডিমকে বিজ্ঞানীরা সাস্থকর বলে উল্লেখ করেছেন।

সম্পূর্ণ সিদ্ধ

অনেকেই বেশি ফ্যাট এর কারনের ডিমের কুসুম খান না। সিদ্ধ ডিমের সাদা অংশ খান। একটি ফুল সিদ্ধ ডিমে ১২ .৬ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। আপনি যদি জিম করেন নিয়মিত তাহলে ফুল সিদ্ধ ডিম খেতে পারেন নিয়মিত।

ডিম পোঁচ

তেলে ভাজা ডিমে তুলনামূলক বেশি প্রোটিন থাকে সিদ্ধ ডিমের চেয়ে। এটা হয় তেলে ভাজার কারণে। বাচ্চাদের জন্য এভাবে ডিম পোঁচ খেতে দেওয়া ভালো। তবে যদি আপনার রক্তচাপের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে এভাবে ডিম খাওয়া পরিহার করা উচিত। প্রয়োজনে ডাক্তার এর সাথে কথা বলুন।

উপসংহারঃ ডিম কিভাবে খাওয়া উচিত

আশাকরি লেখাটি আপনার উপকারে এসেছে। আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে গিয়েছেন, আপনার কাছে সঠিক বৈধ ইনফরমেশন পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। ডিম কিভাবে খাওয়া উচিত? এই বিষয়ে যদি কোন প্রশ্ন থেকে থাকে কমেন্ট করুন। আমরা রেফারেন্স সহ তথ্য লিখি শুধু আপনার জন্য। ভালো লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করবেন প্লিজ, আমাদের কষ্ট সার্থক হবে। সুস্থ থাকুন।

Leave a Comment