মোটা হওয়ার সহজ উপায় কিঃ এত সহজ জানতেন

মোটা হওয়ার সহজ উপায় কি? এই প্রশ্ন আমার মত হ্যাঙলা পাতলা বেক্তির মাথায় সবসময় ঘুরতে থাকে। কারণ, আমাদের সমাজে মোটা হলে যেমন বডি শেমিং সহ্য করতে হয়।

এমনকি আপনার বন্ধুরাও মজা নিতে ছাড়ে না। তেমনি স্বাস্থ্য একটু চিকন হলেও অনেকের বাজে কথা শুনতে হয়। বিশেষ করে আমাদের দেশের মেয়েরা এই ধরনের বৈষম্য এর শিকার হতে হয়।

অনেকে তো আবার ডাক্তারএর শরণাপন্ন হন। বিভিন্ন হাতুড়ে ডাক্তার এর কাছে থেকে ওষুধ নিতেও বাধে না। যেকোনো ভালো এমবিবিএস ডাক্তার অবশ্যই আপনাকে সঠিক পরামর্শ দিতে পারে। কিন্তু বাজারে অলিতে গলিতে যেসব ওষুধ পাওয়া যায় টা খাওয়া নিরাপদ নয়।

সুস্থ হওয়া একটি প্রক্রিয়া যার মধ্যে সময়, প্রতিশ্রুতি এবং পরিবর্তনের ইচ্ছুক জড়িত। পড়তে থাকুন মোটা হওয়ার সহজ উপায়, এবং এখুনি কাজে লেগে পড়ুন।

ওজন কম হয় কেন?

এমন অনেক কারণ আছে, যেতার কারণে অনেকের ওজন কম হতে পারে। কারো ওজন কম হওয়ার পিছনে পারিবারিক জিনগত ব্যাপার হতে পারে। হতে পারে আপনার পারিবারিক ভাবে বা বংশগত ভাবে ওজন কম, এটা কি খেয়াল করেছেন? এমন হলে আপনার ওজন বাড়ার সম্ভাবনা কম। অনেকের আবার অসুস্ততার জন্য ওজন কম হতে পারে। হত আপনি জানেন না আপনি অসুস্থ কিনা।

এজন্য আগে ডাক্তার এর শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। পরামর্শ নেওয়ার জন্য হলেও। শারীরিক অসুস্থতা ডায়রিয়ার মতো অসুস্থতাগুলি অস্থায়ীভাবে আপনার ওজন হ্রাস করতে পারে যখন ডায়াবেটিস এবং হজমজনিত সমস্যাগুলির কারণে হতে পারে। মজার বিষয় হচ্ছে যাদের হজম ক্ষমতা বেশি তাদের ওজন কম হতে পারে, সঠিক খাবার খাওয়ার অভাবে। মানসিক অসুস্থতা যেমন হতাশা, উদ্বেগ অতিরিক্ত চিন্তা করা, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, এসব কারণে ওজন কমে যায় বা বাড়ে না। আর্টিকেলটি ফলো করে মোটা হওয়ার সহজ উপায় জেনে নিন।

আরও পড়ুন- ডিম খাওয়ার পদ্ধতি ও উপকারিতা

নিজেকে উন্নত করুন সহজ উপায়ে

পেটের মেদ কমানোর উপায়

ওজন খুব বেশি কম হওয়ার স্বাস্থ্য ঝুকি কি কি?

আপনার উচ্চতা অনুসারে ওজন সঠিক কি না এটা জানার জন্য BMI টেস্ট করতে পারেন। বিভিন্ন অনলাইন ক্যালকুলেটর দিয়ে ১ মিনিটে হিসেব করে ফেলতে পারবেন। আপনার কতটুকু ওজন বাড়ানো বা কমানো প্রয়োজন।

পুষ্টির ঘাটতি ফারটালিটি সমস্যা রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে যায় ত্বক চুল ও দাঁতের সমস্যা দেখা দেয় বেশিবেশি ক্লান্ত লাগে।

মোটা হওয়ার সহজ উপায় কি?

শরীরের ফ্যাট বাড়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এমন খাবার যেমন অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলুন। পরিবর্তে, নিয়মিত খাবার এবং স্ন্যাক্স সহ পুষ্টিকর সুষম খাদ্য খাওয়ার দিকে নজর দিন।সাস্থ বাড়াতে এনএইচএসের বর্তমান গাইডলাইনগুলিঃ

  • প্রতিদিন বেশি বেশি ফল এবং শাকসবজি।
  • পাস্তা, ভাত বা আলু জাতীয় স্টার্চি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন।
  • কিছু দুগ্ধ, মোটা হওয়ার জন্য পূর্ণ ফ্যাটযুক্ত দুধ খান।
  • প্রোটিন যেমন মাছ, মাংস, ডিম, ডাল এবং মটরশুটি।
  • সপ্তাহে দুটি অংশ মাছ খান

বিভিন্ন ধরণের খাবার খান

সুস্বাস্থ্যের বা মোটা হওয়ার জন্য আমাদের ৪০ টিরও বেশি আলাদা পুষ্টি দরকার এবং কোনও নির্দিষ্ট খাদ্যই এগুলি সরবরাহ করতে পারে না। এটি একক খাবারের জন্য নয়, সময়ের সাথে সাথে এটি ভারসাম্যপূর্ণ খাবারের পছন্দের বিষয়ে যা পার্থক্য তৈরি করবে! প্রতিদিন খাবার একবার মাংস অথবা মাছ রাখতে পারেন।

প্রচুর পরিমাণে শর্করাযুক্ত খাবার

মোটা হতে চাইলে আমাদের খাদ্য তালিকায় প্রায় অর্ধেক শর্করা চাল আলু রুটি জাতীয় কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিত। রুটি পাস্তা খাওয়া সাথের জন্য অনেক ভালো, পাস্তাতে প্রচুর ফাইবার থাকে। সুস্বাস্থ্য এবং সঠিক ক্রিয়াকলাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর অত্যধিক পরিমাণ আমাদের ওজন এবং কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিভিন্ন ধরণের চর্বিগুলির বিভিন্ন স্বাস্থ্যের প্রভাব রয়েছে। সপ্তাহে কমপক্ষে ২-৩ বার মাছ খাওয়া উচিত।

প্রচুর ফল ও সবজি খান

ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবার মোটা হতে অনেক সাহায্য করে। এ গুলোর চাহিদা পুরন করতে আমাদের নিয়ম করে শাকসবজি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।প্রতিটি খাবারে একটি সবজি, রাতে এক গ্লাস ফলের জুস, একটি আপেল ও একটি তরমুজ রাখা ভালো, যদি দ্রুত মোটা হতে চান স্বাস্থ্য ঠিক রেখে।

লবণ এবং চিনি কমিয়ে ফেলুন

উচ্চ মাত্রায় নুন গ্রহণের ফলে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। চিনি মিষ্টি এবং একটি লোভনীয় স্বাদ সরবরাহ করে, তবে চিনিযুক্ত খাবার এবং পানীয়গুলি শক্তিতে সমৃদ্ধ এবং একটি মাঝেমধ্যে ট্রিট হিসাবে খাওয়া অন্যায় নয়। আমরা এর পরিবর্তে ফল ব্যবহার করতে পারি।

বেশি ক্যালরি রাখুন খাদ্য তালিকাতে

আমরা প্রতিদিন যে খাদ্য গ্রহণ করি, সেটা থেকে যে শক্তি আমরা পায়, তাই হল ক্যালরি। মোটা হওয়ার সহজ উপায় হল উচ্চ ক্যালরি যুক্ত খাবার খাওয়া নিয়মিত। কিছু খাবারে এই ক্যালরি কম থাকে এবং কিছু খাবারে ক্যালরি থাকে উচ্চমানের অর্থাৎ অনেক বেশি। মোটা হওয়ার জন্য এই খাবার গ্রহনের ভালো। উচ্চ ক্যালরি যুক্ত খাবার বেশি করে খাবেন। যেমনঃ ঘি, ডিম, পনির, গরু-খাসির মাংস, আলু, মিষ্টি জাতীয় খাবার, দুধ, ডিম, কিসমিস, খেজুর, দই, কলা, আঙুরের জুস, আনারস ইত্যাদি খাবারে প্রচুর ক্যালরি থাকে। তাই প্রতি বেলার খাদ্য তালিকায় এই খাবার গুলি রাখার চেষ্টা করুন।

প্রচুর পানি পান করুন

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পানি বা জল এর গুরুত্ব অপরিসীম, এটা আমরা সবাই জানি। প্রতিদিন দেড় লিটার পরিষ্কার পানি/জল পান করুন। প্রয়োজনে পানি ফুটিয়ে খাবেন, কারণ অপরিষ্কার পানির কারণে অনেক রোগ তৈরি হতে পারে। এটি খাবার পরিপাক, শরীরে পানির ঘাটতি পুরন করে শরীর সতেজ রাখে।

পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করুন

খাবারের অন্যান্য ৬ টি উপাদানের মধ্যে প্রোটিন অতান্ত প্রয়োজনীয়। মাছ, দুধ ডিম নিয়মিত খেলে আপনার প্রোটিনের চাহিদা পুরন হবে। এটি শরীরে নোতুন পেশী তৈরি সহ আরও অনেক গুরুত্ব পূর্ণ কাজে করে থাকে। যদি মোটা হওয়ার সহজ উপায় জানতে চান, এটা একটা সিক্রেট।

টেনশনমুক্ত থাকুন

টেনশন আমাদের শরীরকে অনেক ভাবে অসুস্থ করে দেয়। টেনশন থেকেই ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়। ঘুমের সমস্যা হলে পরিপাক বা হজমে সমস্যা দেখা দেয়, বাথরুম ক্লিয়ার হয় না। ফলে নানা রকম অসুবিধা তো হয়, সাথে স্বাস্থ্যবান বা মোটা আর সহজে হয়ে উঠে না। নিজেকে টেনশন মুক্ত রাখতে যা করা লাগে তাই করুন ( সংবিধান মেনে) আর্টিকেল পড়তে পারেন, দুখের গান শুনবেন না প্লিজ। সবসময় চিল মুডে রাখুন নিজেকে।

Leave a Comment