নিজেই নিজের ভোটার আইডি কার্ড দেখবো কিভাবে

নিজেই নিজের ভোটার আইডি কার্ড দেখবো কিভাবে, এই প্রশ্নটা আমরা সবসময় করে থাকি, যখন নতুন ভোটার আইডি কার্ড এর জন্য রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন করি।

একটা নির্দিষ্ট সময় পরে আমরা আমাদের ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে পারি অনলাইনে। হয়ত আপনার এই মুহূর্তে ভোটার আইডি কার্ড এর খুব জরুরি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে!

কিন্তু ভোটার নিবন্ধন করার পরেও এখনো ভোটার আইডি হাতে পাননি, তাহলে কি করবেন?

আপনার জন্য সহজ সমাধান নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সরকার, সেই সঠিক তথ্যটি আপনার কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আমার।

বাংলাদেশে ভোটার আইডি কার্ড সংক্রান্ত সকল সমস্যার সহজ সমাধান কিভাবে করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করব। এই আর্টিকেল পড়া শেষে আপনি জানবেন, ভোটার আইডি কার্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য, কিভাবে নোতুন ভোটার হবো, নিজেই নিজের ভোটার আইডি কার্ড দেখবো কিভাবে, নিবন্ধন করারপর নতুন ভোটার আইডি কার্ড কবে দিবে, মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র দেখবো, সংশোধন এবং নিয়মাবলি ও ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে কি করবো? আপনার এইসব প্রশ্নের উত্তর জানবো।

পড়তে থাকুন, ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন, যাতে অন্নের উপকারে আসে।

ভোটার আইডি কার্ড কি?

জাতীয় পরিচয়পত্র(National Identity Card) এক কথায় ভোটার আইডি কার্ড হল একটি বাধ্যতামূলক পরিচয় পত্র, যা বাংলাদেশে ১৮ বছর বয়স হলে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি পরিচয় দলিল।NID এনআইডি বা ভোটার আইডি কার্ড হল বাংলাদেশী ড্রাইভারের লাইসেন্সের মতো একটি সরকারী জারি করা ফটো আইডি, যা একটি বায়োমেট্রিক, মাইক্রোচিপ এমবেডেড, স্মার্ট আইডেন্টিটি কার্ড।

একাধিক প্রয়োজনীয় পাবলিক সার্ভিসের জন্য প্রয়োজন, যেমন ইউটিলিটি কানেকশন পাওয়া, সেইসাথে প্রাইভেট সার্ভিস যেমন বাংলাদেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য এবং পাসপোর্ট এর জন্য প্রয়োজন হয়। কাগজে লেমিনেটেড ভোটার আইডি কার্ড ২০০৬ সালে চালু করা হয়, কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের জন্য বায়োমেট্রিক এবং মাইক্রোচিপ এমবেডেড স্মার্ট এনআইডি কার্ডের কার্যক্রম শুরু করা হয়।

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য একটি জনসংখ্যাতাত্ত্বিক এবং বায়োমেট্রিক ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছিল। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী সকল বাংলাদেশীদের পরিচয়পত্র প্রদান করা হয় এবং একটি কেন্দ্রীয় বায়োমেট্রিক ডাটাবেসে অন্তর্ভুক্ত করা হয় , যা ব্যবহার করেবাংলাদেশে নির্বাচন পদ্ধতি তদারকি করবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন । ২০১৬ এর আগে, কেবলমাত্র সাধারণ পরিচয়পত্র জারি করা হয়েছিল যার মধ্যে কেবল আইডি ধারকের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল; পিতা এবং মাতার নাম; জন্ম তারিখ; আইডি নাম্বার; ছবি; থাম্ব এবং ইন্ডেক্স ফিঙ্গারপ্রিন্ট; এবং স্বাক্ষর। এই কাগজ ভিত্তিক স্তরিত এনআইডি কার্ডগুলি জাল করা সহজ ছিল। যাইহোক, অক্টোবর ২০১৬ থেকে শুরু করে, কার্ডধারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জালিয়াতি ও জালিয়াতি রোধ করার জন্য তাদের প্রতিস্থাপন করা হয় বায়োমেট্রিক, মাইক্রোচিপ এমবেডেড, স্মার্ট পরিচয়পত্র। স্মার্ট এনআইডি কার্ডগুলিতে অন্যান্য বায়োমেট্রিক এবং পরিচয় তথ্যের পাশাপাশি দশটি আঙুলের ছাপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমরা আজ জানব নিজেই নিজের ভোটার আইডি কার্ড দেখবো কিভাবে।

ভোটার আইডি কার্ড কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভোটার আইডি কার্ড আমাদের বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিক এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যে বাংলাদেশের বৈধ নাগরিক এটি তার প্রমাণ দেয়। দেশের সমস্ত নাগরিক সুবিধা ও সেবা নিতে সবারই ভোটার আইডি কার্ড প্রয়োজন সব কাজে।কয়েক বছর পর পর নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন কমিশন এটি হালনাগাদ করে থাকেন।যোগ্য ভোটারের তালিকা হালনাগাদ করা নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি চলমান প্রক্রিয়া। ভোটার আইডি কার্ড ছাড়া আপনি বেশিরভাগ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না। আপনার বাংকে হিসাব খোলা থেকে শুরু করে, সন্তান কে স্কুলে ভর্তি করে এটি প্রয়োজন, এমনকি অনলাইন জব করতে গেলেও প্রয়োজন হয়। এবং এখন তো নতুন সিম কিনতে গেলেও আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র প্রয়োজন।

ভোটার আইডি কার্ড এর সুবিধা সমূহ

বাংলাদেশী স্মার্ট এনআইডি কার্ডের মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত সুবিধা এবং পরিষেবাগুলি গ্রহণ করতে পারবেনঃ

  • নাগরিকদের অধিকার এবং সুবিধা জাতীয় পরিচয় ড্রাইভিং লাইসেন্স পাসপোর্ট
  • সম্পত্তি জমি কেনা বেচা
  • বাংলাদেশী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন
  • অ্যাকাউন্ট চেক
  • সরকারি পেনশন
  • সরকারি আর্থিক সাহায্য বা সহায়তা
  • বিন সুবিধা
  • শেয়ার-বিও অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণকারী
  • ব্যবসা বাণিজ্য লাইসেন্স
  • যানবাহন নিবন্ধন
  • বীমা প্রকল্প
  • বিবাহ নিবন্ধন
  • ই-পাসপোর্ট
  • ই-গভর্নেন্স
  • গ্যাস এবং বিদ্যুৎ সংযোগ
  • মোবাইল সংযোগ
  • স্বাস্থ্য কার্ড
  • ই-ক্যাশ
  • জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড

ব্যাংক লেনদেন ও শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুবিধাসহ নানা ধরনের নাগরিক সুবিধা পেয়ে থাকেন।

কিভাবে নতুন ভোটার হবো?

আপনার বয়স যদ ১৮ বছর বা তার বেশি, কিন্তু এখনো ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হননি, তারা নিবন্ধন করতে পারেন। তালিকাভুক্তির সময় তাদের আবেদনপত্রের পাশাপাশি নিম্নলিখিত সহায়ক ডকুমেন্টস প্রয়োজন। যিনি বাংলাদেশের নাগরিক কিন্তু এখনও নিবন্ধিত হননি,আপনার বয়স যদি ১০বছর বা বেশি হয়ে থাকে কিন্তু এখনও ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হননি তাহলে online এ ফরম পূরণ করে আপনার সিডিউল মোতাবেক সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করে বায়োমেট্রিক প্রদান করুন। বায়োমেট্রিক প্রদানের সময় আপনার কিছু সংযুক্ত কাগজ পত্র প্রয়োজন হবে, যা নিন্মরুপ

নতুন ভোটার নিবন্ধন সংক্রান্ত কমন প্রশ্নসমুহঃ

যথা সময়ে ভোটার হিসেবে Registration করতে না পারলে কি করা উচিত?

সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে যথাযথ কারণ উল্লেখপূর্বক আবেদন করতে পারেন।

বিদেশে অবস্থানের কারণে Voter Registration করতে পারিনি, এখন কিভাবে করতে পারবো?

সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে বাংলাদেশ পাসপোর্ট-এর অনুলিপিসহ জন্ম সনদ, নাগরিকত্ব সনদ, এসএসসি (প্রযোজ্যক্ষেত্রে) সনদ, ঠিকানার সমর্থনে ইউটিলিটি বিলের কপি বা বাড়ী ভাড়া বা হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদের কপিসহ আবেদন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ফর্মসমূহ পূরণ করতে হবে।

আমি ২০০৭/২০০৮ অথবা ২০০৯/২০১০ সালে ভোটার রেজিস্ট্রেশন করেছি কিন্তু সেই সময় আইডি কার্ড গ্রহণ করিনি। এখন কিভাবে আইডি কার্ড পেতে পারি?

আপনি আপনার ভোটার রেজিস্ট্রেশনের সময় প্রদত্ত প্রাপ্তি স্বীকার পত্রটি নিয়ে যে স্থানে ভোটার হয়েছেন সেই এলাকার উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন। যদি সেখানেও না পাওয়া যায় তাহলে প্রাপ্তি রশিদে উপজেলা নির্বাচন অফিসারের মন্তব্যসহ স্বাক্ষর ও সিল দিয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে যোগাযোগ করা যাবে।

নতুন ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে কি কি কাগজ পত্রাদি প্রয়োজন?

জন্ম নিবন্ধন সনদ, এস,এস,সি বা সমমানের পরীক্ষা পাসের সনদ (যদি থাকে), ঠিকানা প্রমানের জন্য কোন ইউটিলিটি বিলের কপি, নাগরিক সনদ, বাবা-মা এবং বিবাহিত হলে স্বামী/স্ত্রীর NID কার্ডের ফটোকপি, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, TIN নম্বর (যদি থাকে)।

ভোটার তালিকার নামের সাথে বিভিন্ন খেতাব, পেশা, ধর্মীয় উপাধি, পদবী ইত্যাদি যুক্ত করা যাবে কিনা?

ভোটার তালিকার ডাটাবেজে শুধুমাত্র নাম সংযুক্ত করা হয়, কোন উপাধি বা অর্জিত পদবী তাতে সংযুক্ত করার অবকাশ নাই।

ID Card সংগ্রহ করব কিভাবে?

যে এলাকায় ভোটার রেজিস্ট্রেশন করেছেন সেই এলাকার উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিস থেকে ID Card সংগ্রহ করা যাবে।

আমি বিদেশে চলে যাব। আমার কার্ড কি অন্য কেউ উত্তোলন করতে পারবে?

হ্যাঁ । আপনার ক্ষমতা প্রাপ্ত প্রতিনিধির যথাযথ ক্ষমতাপত্র ও প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (Authorization Letter) নিয়ে তা সংগ্রহ করাতে পারবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ১৩ আবার কারো ১৭ কেন?

২০০৮ এর পরে যত আইডি কার্ড প্রিন্ট করা হচ্ছে বা পুণঃ তৈরি হচ্ছে সে সকল কার্ডের নম্বর ১৭ ডিজিট হয়ে থাকে।

বিভিন্ন দলিলে আমার বিভিন্ন বয়স/নাম আছে। কোনটা ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে?

এসএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষার সনদে উল্লেখিত বয়স ও নাম। ভবিষ্যতে ৫ম/৮ম সমাপনী পরীক্ষার সনদ ও গ্রহণযোগ্য হবে।লেখাপড়া না জানা থাকলে জন্ম সনদ,পাসপোর্ট,ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে ও আবেদন করা যাবে।

আমি ভুলে দু’বার ভোটার রেজিস্ট্রেশন করে ফেলেছি এখন কি করবো?

যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিসে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা জানান। বর্তমানে Finger Print Matching কার্যক্রম চলছে। অচিরেই সকল Duplicate Entry সনাক্ত করা হবে। উল্লেখ্য, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

একজনের কার্ড অন্যজন সংগ্রহ করতে পারবে কিনা?

ক্ষমতাপত্র ও প্রাপ্তিস্বীকার রশিদ নিয়ে আসলে সংগ্রহ করা যাবে।

ভোটার আইডি কার্ড এর জন্য বিভিন্ন ফরমের কথা বলেছেন? এগুলো কোথায় পাওয়া যাবে?

NID Registration Wing/উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করে সংগ্রহ করা যাবে অথবা Website : www.ecs.gov.bd বা www.nidw.gov.bd থেকে ডাউন-লোড করা যাবে।

নতুন ভোটার হতে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

  • এসএসসি বা সমমানের সার্টিফিকেট
  • জন্ম সনদ
  • পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বা টিআইএন সার্টিফিকেট (যদি পাওয়া যায়)
  • ইউটিলিটি বিলের কপি, বাড়ি ভাড়ার রসিদ, বা হোল্ডিং ট্যাক্স রসিদ (ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে)
  • নাগরিকত্ব সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
  • বাবা, মা, স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডির সত্যায়িত ফটোকপি ছবি এবং বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের জন্য ইসি প্রাঙ্গণে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে।

নতুন ভোটার আইডি কার্ড দেখবো কিভাবে ?

প্রত্যেক মানুষের মত যখন আপনি নতুন ভোটার হওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন, নিবন্ধন শেষে আপনাকে একটা রশিদের মত দেখতে একটা কাগজ যাকে বলা হয় স্লিপ, দেওয়া হয়েছিল। ওটা কি যত্ন করে রেখেছেন? জানি আপনি সুনাগরিক, হারিয়ে ফেলেননি। তবে চিন্তা করবেন না হারিয়ে ফেললে কি করা সমাধান করবেন সেটা, অথবা ভাবছেন নিজেই নিজের ভোটার আইডি কার্ড দেখবো কিভাবে, নিচে লেখা আছে, পড়ে নিন। অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড দেখার জন্য আপনার ওই স্লিপ এ থাকা একটি নম্বর ও জন্ম তারিখ লাগবে। তাহলে, চলুন জেনে আসি নিজেই নিজের ভোটার আইডি কার্ড দেখবো কিভাবে?

নিজেই নিজের ভোটার আইডি কার্ড দেখবো কিভাবে

কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে আপনি খুব সহজেই নিজেই নিজের ভোটার আইডি কার্ড দেখতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে কয়েক ধাপে এই কাজটি করে ফেলতে পারবেন। এই পদ্ধতিতে ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে আপনার প্রয়োজন ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ নম্বর, ওরিজিনাল অর্থাৎ নিবন্ধন এর সময় যে জন্ম তারিখ দিয়েছিলেন সেটা, এবং একটি সহজ কাপচা পূরণ করে এন্টার চাপলেই দেখতে পারবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত ভোটার আইডি কার্ড। অথবা সরাসরি এই লিংক এ যান সেখান একটি ফর্ম দেখতে পারবেন। নিচের ছবির মত, দেখে দেখে পূরণ করে ফেলুন ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে।

ভোটার আইডি কার্ড চেক করুন ২ মিনিটে

ভোটার আইডি কার্ড নিবন্ধন করার পর কিংবা অনেক সময় কাছে ভোটার আইডি না থাকতে পারে। তাই এরকম জরুরী মুহূর্তে ভোটার আইডি কার্ড চেক করার প্রয়োজন পড়ে। যাতে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় কাজটি সমাধান করতে পারি। চলুন জেনে আসি কয়েকটি সহজ ধাপে আমরা কিভাবে ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে পারি। যাতে ডাউনলোড করে সেভ করে রাখতে পারেন।

কয়েকটি ধাপে আমরা ভোটার আইডি কার্ড চেক করব অনলাইনে

অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড চেক করার জন্য আমাদের এখন যে জিনিস গুলো প্রয়োজন হবে তা হলঃ ভোটার আইডি কার্ড নিবন্ধন এর স্লিপ ( যখন আপনি নিবন্ধন করেছিলেন তখন আপনাকে একটি নিবন্ধন স্লিপ দেওয়া হয়েছিল) ফোন নাম্বার, জন্ম তারিখ, এলাকার নাম, ইউনিয়ন নাম, বিভাগ, উপজেলার নাম। সর্ব প্রথম এখানে ওয়েবসাইট আসবে সেই ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন। তখন নিচে দেওয়া পিকচারের মত হোম পেজ আপনার সামনে আসবে। যেহেতু আমাদের কাছে ভোটার আইডি কার্ড নেই তাই আমরা নিবন্ধন স্লিপ ব্যাবহার করব। এখানে অপশন দেখতে পাবেন আইডি নাম্বার অথবা স্লিপ নাম্বার দিয়ে যাচাই করার।

ভোটার আইডি কার্ড চেক করার প্রথম ধাপ

ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে এই ধাপে আপনার ভোটার আইডি নিবন্ধন স্লিপ নাম্বার নির্ভুল ভাবে টাইপ করুন। তারপর, আপনার কাঙ্ক্ষিত জন্ম সাল ও তারিখ লিখুন। এটা লেখা হয়ে গেলে খেয়াল করুন, পরবর্তী ফর্ম এ কিছু ক্যাপচা ফিলআপ করতে হবে। এইটা পাশের লেখা দেখে দেখে নির্ভুলভাবে পুরন করে “ভোটার তথ্য দেখুন” বাটন ক্লিক করুন।

ভোটার আইডি কার্ড চেক
ভোটার আইডি কার্ড চেক

এই ধাপে আপনি আপনি আপনার ভোটার আইডি নাম্বার দেখতে পাবেন। পরবর্তী ধাপে আমরা ভোটার আইডি কার্ড এর সমস্ত তথ্য দেখবো।

নতুন ভোটার আইডি কার্ড কবে দিবে

তরুণদের জন্য ভোটার আইডি কার্ড বেশ এক্সসাইটেড বিষয়। অন্যরকম একটা অনুভূতির মত। নতুন ভোটার আইডি কার্ড নিবন্ধন করার পর আমার মত অনেকেই হয়ত ভাবছেন, নতুন ভোটার আইডি কার্ড কবে দিবে, তাই না? নিবন্ধন করার সময় আপনি নিশ্চয় আপনার যোগাযোগ হিসেবে আপনার ফোন নাম্বার দিয়েছিলেন। অনেক সময় মেসেজ করে জানিয়ে দেওয়া হয়, অথবা আপনার এলাকায় উপজেলা বা ইউনিয়ন থেকে মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হতে পারে, নতুন ভোটার আইডি কার্ড কবে দিবে এই বিষয়ে। সাধারণত ৬ মাস কিংবা এ বছর এর মধ্য স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে দেওয়া হয়, এ জন্য আপনার উপজেলা কাউন্সিল অফিসে যোগাযোগ রাখুন। আরও মজার বিষয় হচ্ছে আপনি যেকোনো সময় ভোটার আইডি কার্ড এর প্রয়োজন বা সমস্যা সমাধান করতে অনলাইন থেকে সংগ্রহ করতে পারেন খুব সহজেই।

মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি চেক করব কিভাবে

মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র চেক করা কিংবা জানা যায় না। জাতীয় পরিচয় পত্রের অনলাইন সংস্করণ দেখতে আপনার কি কিপদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে সেটা, আগেই আলোচনা করেছি।

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করব কিভাবে?

অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড কার্ড সংশোধন করা একদম সহজ। মাত্র ৩-৪ মিনিটে আপনি এই কাজটি কমপ্লিট করতে পারবেন। অনেক আমাদের ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য ভুল থাকতে পারে কিংবা অনেক ইনফরমেশন পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। এ জন্য তখন আমরা চিন্তায় পড়ে যায় ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করব কিভাবে। এক সময় এই তথ্য গুলো পরিবর্তনের জন্য অনেক ঝামেলা পোহাতে হত। শুধু তাই নয়, অনেক সময় সাপেক্ষ ছিল। কিন্তু বর্তমানে খুব কম সময়ে অনলাইনেই এই কাজটি করে ফেলতে পারবেন। এ জন্য প্রথমে আপনার জানা উচিত ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কি কি লাগে।

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কি কি লাগে

এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে একটি আবেদন করতে হবে, যদি অনলাইনে না করতে চান। এজন্য আপনার যা যা লাগবে তাহলঃ

আপনার নাম, জন্ম তারিখ এবং পিতা-মাতার নাম বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা ভোটার আইডি কার্ড

নির্বাচনকালীন ভোটকেন্দ্র সম্পর্কিত তথ্য

যেভাবে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করবেন

প্রথমে NID ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করুন, প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে লগইন করুন প্রোফাইল অপশন এ ক্লিক করুন, এখানে আপনার সব তথ্য দেখতে পাবেন এখান থেকে বহাল বাটনএ ক্লিক করলে একটা অনলাইন ফর্ম পাবেন এখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পরিবর্তন করতে পারবেন সেখানে প্রতিটি তথ্যের পাশে একটা বক্স থাকে। উক্ত বক্স সমূহে ক্লিক করলে ঠিক মার্ক যুক্ত হবে। সেই সাথে ঠিক মার্ক যুক্ত বক্সের তথ্য এডিট করুন প্রয়োজনীয় সকল তথ্য পরিবর্তন করা হয়ে গেলে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন ( বাটনটি উপরে ডান দিকে দেখতে পাবেন) পরবর্তী ধাপ অনুসরণ করুন।

ভোটার আইডি কার্ড বা ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ নম্বর হারিয়ে গেলে কি করব

ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ নম্বর হারিয়ে গেলে প্রথমে আপনি আপনার এলাকার থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করুন। আপনার সঠিক ফোন নাম্বার দিবেন, তাহলে নির্দিষ্ট সময় পরে আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে বা কাউন্সিল অফিস থেকে আপনাকে যোগাযোগ করতে বলা হবে। তারাই আপনার সমস্যা সঠিক সমাধান করে দেবেন।

ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে কি করব?

পড়তে থাকুনঃ

ID Card হারিয়ে গিয়েছে। কিভাবে নতুন কার্ড পেতে পারি?

নিকটতম থানায় জিডি করে জিডির মূল কপিসহ সংশ্লিষ্ট উপজেল/থানা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে অথবা ঢাকায় জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে আবেদন করতে হবে।

হারানো ভোটার আইডি কার্ড পেতে বা সংশোধন করতে কি কোন ফি দিতে হয়?

এখনো হারানো কার্ড পেতে কোন প্রকার ফি দিতে হয় না। তবে ভবিষ্যতে হারানো আইডি কার্ড পেতে/সংশোধন করতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি ধার্য করা হবে।

হারানো ও সংশোধন একই সাথে করা যায় কি?

না। আগে হারানো কার্ড তুলতে হবে, পরবর্তীতে সংশোধনের জন্য আবেদন করা যাবে

হারিয়ে যাওয়া আইডি কার্ড কিভাবে সংশোধন করব?

প্রথমে হারানো আইডি কার্ড উত্তোলন করে তারপর সংশোধনের আবেদন করতে হবে

প্রাপ্তি স্বীকারপত্র / স্লিপ হারালে করণীয় কি?

স্লিপ হারালেও থানায় জিডি করে সঠিক ভোটার আইডি নাম্বার দিয়ে হারানো কার্ডের জন্য আবেদন পত্র জমা দিতে হবে।

প্রাপ্তি স্বীকারপত্র / ID Card হারিয়ে গেছে কিন্তু কোন Document নেই বা NID নম্বর/ ভোটার নম্বর/ স্লিপের নম্বর নেই, সে ক্ষেত্রে কি করণীয়?

সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিস থেকে Voter Number সংগ্রহ করে NID Registration Wing/ উপজেলা/ থানা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্রে নেই কিন্তু তথ্য পরিবর্তিত হয়েছে এমন তথ্যাদি পরিবর্তন কিভাবে সম্ভব?

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে এ সংক্রান্ত কাগজপত্রাদি সহ আবেদন করলে যাচাই-বাছাই করে বিবেচনা করা হবে

ভোটার আইডি কার্ড চেক সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন সমূহ

১। প্রশ্নঃ কার্ডের তথ্য কিভাবে সংশোধন করা যায়?

উত্তরঃ এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে। সংশোধনের পক্ষে পর্যাপ্ত উপযুক্ত দলিলাদি আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

২। প্রশ্নঃ কার্ডে কোন সংশোধন করা হলে তার কি কোন রেকর্ড রাখা হবে?

উত্তরঃ সকল সংশোধনের রেকর্ড সেন্ট্রাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে।

৩। প্রশ্নঃ ভুলক্রমে পিতা/স্বামী/মাতাকে মৃত হিসেবে উল্লেখ করা হলে সংশোধনের জন্য কি কি সনদ দাখিল করতে হবে?

উত্তরঃ জীবিত পিতা/স্বামী/মাতাকে ভুলক্রমে মৃত হিসেবে উল্লেখ করার কারণে পরিচয়পত্র সংশোধন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়পত্র দাখিল করতে হবে।

৪। প্রশ্নঃ আমি অবিবাহিত। আমার কার্ডে পিতা না লিখে স্বামী লেখা হয়েছে।

কিভাবে তা সংশোধন করা যাবে? উত্তরঃ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে আপনি বিবাহিত নন মর্মে প্রমাণাদিসহ আবেদন করতে হবে।

৫। প্রশ্নঃ বিয়ের পর স্বামীর নাম সংযোজনের প্রক্রিয়া কি?

উত্তরঃ নিকাহনামা ও স্বামীর আইডি কার্ড এর ফটোকপি সংযুক্ত করে NID Registration Wing/ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিস বরাবর আবেদন করতে হবে।

৬। প্রশ্নঃ বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এখন ID Card থেকে স্বামীর নাম কিভাবে বাদ দিতে হবে?

উত্তরঃ বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত দলিল (তালাকনামা) সংযুক্ত করে NID Registration Wing/সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে।

৭। প্রশ্নঃ বিবাহ বিচ্ছেদের পর নতুন বিবাহ করেছি এখন আগের স্বামীর নামের স্থলে বর্তমান স্বামীর নাম কিভাবে সংযুক্ত করতে পারি?

উত্তরঃ প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদের তালাকনামা ও পরবর্তী বিয়ে কাবিননামাসহ সংশোধন ফর্ম পূরণ করে আবেদন করতে হবে।

৮। প্রশ্নঃ আমি আমার পেশা পরিবর্তন করতে চাই কিন্তু কিভাবে করতে পারি?

উত্তরঃ এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে প্রামাণিক কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। উলেখ্য, আইডি কার্ডে এ তথ্য মুদ্রণ করা হয় না।

৯। প্রশ্নঃ আমার ID Card এর ছবি অস্পষ্ট, ছবি পরিবর্তন করতে হলে কি করা দরকার?

উত্তরঃ এক্ষেত্রে নিজে সরাসরি উপস্থিত হয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে আবেদন করতে হবে।

১০। প্রশ্নঃ নিজ/পিতা/স্বামী/মাতার নামের বানান সংশোধন করতে আবেদনের সাথে কি কি দলিল জমা দিতে হবে?

উত্তরঃ এসএসসি/সমমান সনদ, জন্ম সনদ, পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব সদন, চাকুরীর প্রমাণপত্র, নিকাহ্‌নামা, পিতা/স্বামী/মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হয়।

১১। প্রশ্নঃ নিজের ডাক নাম বা অন্য নামে নিবন্ধিত হলে সংশোধনের জন্য আবেদনের সাথে কি কি দলিল জমা দিতে হবে?

উত্তরঃ এসএসসি/সমমান সনদ, বিবাহিতদের ক্ষেত্রে স্ত্রী/ স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি, ম্যাজিট্রেট কোর্টে সম্পাদিত এফিডেভিট ও জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি,ওয়ারিশ সনদ,ইউনিয়ন/পৌর বা সিটি কর্পোরেশন হতে আপনার নাম সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র।

১২। প্রশ্নঃ পিতা/মাতাকে ‘মৃত’ উল্লেখ করতে চাইলে কি কি সনদ দাখিল করতে হয়?

উত্তরঃ পিতা/মাতা/স্বামী মৃত উল্লেখ করতে চাইলে মৃত সনদ দাখিল করতে হবে।

১৩। প্রশ্নঃ ঠিকানা কিভাবে পরিবর্তন/ সংশোধন করা যায়?

উত্তরঃ শুধুমাত্র আবাসস্থল পরিবর্তনের কারনেই ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে এলাকায় বসবাস করছেন সেই এলাকার উপজেলা/ থানা নির্বাচন অফিসে ফর্ম ১৩ এর মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। তবে একই ভোটার এলাকার মধ্যে পরিবর্তন বা ঠিকানার তথ্য বা বানানগত কোন ভুল থাকলে সাধারণ সংশোধনের আবেদন ফরমে আবেদন করে সংশোধন করা যাবে।

১৪। প্রশ্নঃ আমি বৃদ্ধ ও অত্যন্ত দরিদ্র ফলে বয়স্ক ভাতা বা অন্য কোন ভাতা খুব প্রয়োজন। কিন্তু নির্দিষ্ট বয়স না হওয়ার ফলে কোন সরকারী সুবিধা পাচ্ছি না। লোকে বলে ID Card –এ বয়সটা বাড়ালে ঐ সকল ভাতা পাওয়া যাবে?

উত্তরঃ ID Card এ প্রদত্ত বয়স প্রামাণিক দলিল ব্যতিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, প্রামানিক দলিল তদন্ত ও পরীক্ষা করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

১৫। প্রশ্নঃ একই পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের কার্ডে পিতা/মাতার নাম বিভিন্নভাবে লেখা হয়েছে কিভাবে তা সংশোধন করা যায়?

উত্তরঃ সকলের কার্ডের কপি ও সম্পর্কের বিবরণ দিয়ে NID Registration Wing/ উপজেলা/ জেলা নির্বাচন অফিস বরাবর পর্যাপ্ত প্রামাণিক দলিলসহ আবেদন করতে হবে।

১৬। প্রশ্নঃ আমি পাশ না করেও অজ্ঞতাবশতঃ শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তদুর্দ্ধ লিখেছিলাম এখন আমার বয়স বা অন্যান্য তথ্যাদি সংশোধনের উপায় কি?

উত্তরঃ আপনি ম্যাজিট্রেট আদালতে এস.এস.সি পাশ করেননি, ভুলক্রমে লিখেছিলেন মর্মে হলফনামা করে এর কপিসহ সংশোধনের আবেদন করলে তা সংশোধন করা যাবে।

১৭। প্রশ্নঃ ID Card এ অন্য ব্যক্তির তথ্য চলে এসেছে। এ ভুল কিভাবে সংশোধন করা যাবে?

উত্তরঃ ভুল তথ্যের সংশোধনের পক্ষে পর্যাপ্ত দলিল উপস্থাপন করে NID Registration Wing/সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে।এক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক যাচাই করার পর সঠিক পাওয়া গেলে সংশোধনের প্রক্রিয়া করা হবে।

১৮। প্রশ্নঃ রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভূক্ত বা সংশোধনের জন্য কি করতে হয়?

উত্তরঃ রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভুক্ত বা সংশোধন করতে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়কৃত ডায়াগনোসটিক রিপোর্ট দাখিল করতে হয়।

১৯। প্রশ্নঃ বয়স/ জন্ম তারিখ পরিবর্তন করার প্রক্রিয়া কি?

উত্তরঃ এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদের সত্যায়িত ফটোকপি আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে। এসএসসি বা সমমানের সনদ প্রাপ্ত না হয়ে থাকলে সঠিক বয়সের পক্ষে সকল দলিল উপস্থাপনপূর্বক আবেদন করতে হবে। আবেদনের পর বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনে ডাক্তারী পরীক্ষা সাপেক্ষে সঠিক নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।

২০। প্রশ্নঃ স্বাক্ষর পরিবর্তন করতে চাই, কিভাবে করতে পারি?

উত্তরঃ নতুন স্বাক্ষর এর নমুনাসহ গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র সংযুক্ত করে আবেদন করতে হবে। তবে স্বাক্ষর একবারই পরিবর্তন করা যাবে।

২১। প্রশ্নঃ আমার জন্ম তারিখ যথাযথভাবে লেখা হয়নি, আমার কাছে প্রামাণিক কোন দলিল নেই, কিভাবে সংশোধন করা যাবে?

উত্তরঃ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ধন্যবাদ।