ভিডিও গেম বা কম্পিউটার গেমস নিয়ে যেটা অজানা ছিল

ভিডিও গেম বা কম্পিউটার গেম এমন একটি ইলেকট্রনিক ভিজুয়াল দৃশ্যসমূহের সমন্বয় যা খেলোয়াড় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে জয়স্টিক, কন্ট্রোলার, কিবোর্ড কিংবা স্মার্টফোন এর মাধ্যমে। এই দৃশ্যসমুহ একটি ভিডিও ডিসপ্লে ডিভাইসে যেমন কোনও টিভি সেট, মনিটর, টাচস্ক্রিন বা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেটে দেখানো হয়। ভিডিও গেমগুলি প্রায়শই স্পিকার বা হেডফোনএর মাধ্যমে রিয়েলসটীক অডিও ফিডব্যাক সহ অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যাবহার করা হয়।

ভিডিও গেমগুলি তাদের প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায় যেমনঃ আরকেড গেম, কনসোল গেম, পারসোনাল কম্পিউটার (পিসি) গেম। বর্তমানে প্লাটফর্ম এর প্রসারণ ঘটেছে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে সাথে।

১৯৫০ থেকে ১৯৬০ এর দশকে প্রথম ভিডিও গেম বড় ঘর আকারের কম্পিউটার গুলিতে খেলা হত। কিন্তু, গ্রাহকদের জন্য মার্কেটে ছাড়া হয় ১৯৭১ সালে। আরকেড ভিডিও গেম কম্পিউটার স্পেস প্রকাশের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়েছিল, তারপরে পরের বছর পং দ্বারা,

এবং ১৯৭২ সালে ম্যাগনাভক্স ওডিসিকে প্রথম হোম কনসোল দিয়ে। বর্তমানে ভিডিও গেম দেভ্লপ করার জন্য বা মার্কেটে আনার জন্য অসংখ্য দক্ষতা প্রয়োজন যেমনঃ দারুণ প্রোগ্রামিং স্কিলস, পাবলিশার, ডিসট্রিবিউটর, মানুফাকচারার, কনসোল এবং আরও অনেক কিছুই।

video-game

প্রাথমিক ভিডিও গেমগুলি বিভিন্ন ডিসপ্লে ফর্ম্যাট সহ ইন্টারেক্টিভ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে। প্রথম উদাহরণটি ১৯৪৪ সালের — একটি “ক্যাথোড রে টিউব এমিউজমেন্ত ডিভাইস” পেটেন্টের জন্য ২৫ জানুয়ারী ১৯৪৭ সালে টমাস টি গোল্ডস্মিথ জুনিয়র এবং এস্টেল রায় প্যাটেন্ট করা হয়েছিল এবং 14 ডিসেম্বর ১৯৪৮ সালে মার্কিন পেটেন্ট 2455992 হিসাবে জারি করা হয়েছিল।

এই প্রাথমিক আবিষ্কারগুলি আজ ভিডিও গেমগুলির আধুনিকায়নের পথ প্রশস্ত করেছে। রাল্ফ এইচ বায়ের ১৯৬৬ সালে স্যান্ডার্স অ্যাসোসিয়েটসে কাজ করার সময়, একটি টেলিভিশনের পর্দায় টেবিল টেনিসের একটি প্রাথমিক খেলা খেলতে একটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করার ধারণা নিয়ে এসেছিলেন। স্যান্ডার্সের অগ্রগতির কারণে, বায়ের প্রোটোটাইপ “ব্রাউন বাক্স” আউট তৈরী করে।

এদিকে স্যান্ডার্স, বায়ারের আবিষ্কারগুলিকে পেটেন্ট করেছিলেন এবং তাদের ম্যাগনাভক্সকে লাইসেন্স দিয়েছিলেন, যিনি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম হোম ভিডিও গেম কনসোল হিসাবে ম্যাগনাভক্স ওডিসি হিসাবে মার্কেটে বাণিজ্যিকীকরণ করেছিলেন।

গেরিনা ফ্রী ফায়ার রেডিম কোড

আরকেড গেম এবং হোম মেশিন হিসাবে ওডিসি এবং পং উভয়ের সাফল্য ভিডিও গেম ইন্ডাস্ট্রির সূচনা করেছিল। বায়ার এবং বুশনেল দু’জনকেই তাদের অবদানের জন্য “ভিডিও গেমের ফাদার” উপাধি দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন-

সবচেয়ে ভালো ভালো গেম গুলোর তালিকা

বেষ্ট প্রোডাক্টিভিটি এপ্স

ভিডিও গেম খেলতে কি কি লাগে

যেকোনো ভিডিও গেম খেলতে একটি প্লাটফর্ম এর প্রয়োজন হয়। প্লাটফর্ম বা সিস্টেম না হলে তো কোন খেলা যায় না। গেমগুলো এক বা একাধিক সিস্টেমে খেলার জন্যই ডিজাইন করা হয়। যেমন পিসি হলে তার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, কিবোর্ড, মনিটর, কনসোল, জয়সটীক ইত্যাদি।

কম্পিউটার ভিডিও গেম কি?

বেশিরভাগ কম্পিউটার গেম হল পিসি গেম। যা কোন গেম প্লেয়ারকে মনিটরে সংযুক্ত বেক্তিগত কম্পিউটার ে খেলা হয়। পারসোনাল কম্পিউটার গুলি গেমের জন্য সব সময় ডেডিকেটেড নয়। তাই বিভিন্ন হার্ডওয়ার এ খেলার ক্ষেত্রে পার্থক্য দেখা যায়। পিসি গেম গুলি ভিন্ন স্থান থেকে ভিন্ন ভিন্ন বেক্তি একই সাথে একটি গেম খেলতে পারে তাদের নিজেদের মধ্য যোগাযোগের মাধ্যমে।

কনসোল ভিডিও গেম কি?

 একটি হোম কনসোল, একটি বিশেষায়িত ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা একটি সাধারণ টেলিভিশন সেট বা ভিডিও মনিটরের সাথে সংযোগ স্থাপন করে একটি কনসোল গেম খেলা হয়। হোম কনসোল গুলিকে ডিজাইন করা হয় শুধুমাত্র গেমিং এর জন্য ডেডিকেটেড ভাবে। সাধারণত কনসোল গুলির জন্য আলাদাভাবে গেম ডেভ্লপাররা গেম তৈরি করে থাকেন শুধু কনসোলের জন্য। কিছু জনপ্রিয় কনসোল যেমনঃ XBOX, NITENDO, PLAYSTATION.

আরকেড গেম কি?

একসময় ঢাকা শহরের অলিতে গলিতে কিছু গেমের দোকান থাকত। যেখানে আমরা টাকা বা কয়েন দিয়ে গেম খেলতাম। কি মস্তফা গেমের কথা মনে পড়ে গেল নাকি? টিফিনের টাকা জমিয়ে খেলতে যেতাম মস্তফা গেম। আহা কি সময় ছিল তখন! একটি আর্কেড ভিডিও গেম সাধারণত বিশেষ ধরণের ক্যাবিনেটে আবদ্ধ থাকে যার একটি বিল্ট-ইন কনসোল থাকে, নিয়ন্ত্রক ( জয়স্টিক, বোতাম ইত্যাদি), একটি সিআরটি স্ক্রিন এবং স্পীকার থাকে। এটি ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় আমাদের দেশে এখনো আর্কেড গেম আগেরমতো অত নাই, তবে কিছু কিছু গলিতে এখনো চোখে পড়ে।

মোবাইল বা স্মার্টফোন ভিডিও গেম কি?

আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমগুলিতে স্ট্যান্ডার্ডযুক্ত স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট কম্পিউটার প্রবর্তনের সাথে সাথে মোবাইল গেমিং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। এই গেমগুলি মোবাইল ডিভাইসগুলির অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলি ব্যবহার করতে পারে যা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলিতে যেমন অ্যাক্সিলোমিটার, গ্লোবাল পোস্টিং তথ্য এবং ক্যামেরা ডিভাইসগুলিতে অ্যাগমেটেড রিয়েলিটি গেমপ্লে সাপোর্ট করে।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গেমস কি?

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) গেমসের জন্য সাধারণত খেলোয়াড়দের একটি বিশেষ হেড-মাউন্টেড ইউনিট ব্যবহার করা প্রয়োজন যা একটি ভার্চুয়াল পরিবেশের মধ্যে থাকা কোনও খেলোয়াড়কে তাদের মাথা নড়াচড়া করার জন্য সাড়া দেয় এমন স্টেরিওস্কোপিক স্ক্রিন এবং গতি ট্র্যাকিং সরবরাহ করে। কিছু ভিআর সিস্টেমে ভার্চুয়াল বিশ্বের সাথে যোগাযোগের জন্য সরাসরি উপায় সরবরাহ করতে প্লেয়ারের হাতগুলির জন্য নিয়ন্ত্রণ ইউনিট অন্তর্ভুক্ত। ভিআর সিস্টেমগুলিতে সাধারণত একটি পৃথক কম্পিউটার, কনসোল বা অন্য প্রসেসিং ডিভাইসের প্রয়োজন হয় যা হেড-মাউন্ট ইউনিটটির সাথে যুক্ত রাখে। বাস্তব অনুভূতির জীবন্ত ফিলিং পাওয়া যায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গেমস গুলোতে। ৫ জি ইন্টারনেট আসলে এই সেক্টরে দারুণ বিব্লব হতে চলেছে।

আশা করি লেখাটি আপনার ভালো লেগেছে। ভিডিও গেমস নিয়ে আরও কিছি জানার থাকলে কমেন্ট করুন, আমরা উত্তর দেব। ধন্যবাদ।

Leave a Comment